ইপিজেডে ‘তিয়েনশী’র অফিসে রাতভর নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকি; সংবাদ ধামাচাপা দিতে সাংবাদিকদের ২০ হাজার টাকা ঘুষের প্রস্তাব!

চট্টগ্রামে চাকরির প্রলোভনে ২ তরুণীকে ধর্ষণ, এমএলএম কোম্পানির কর্মকর্তা আটক

আল আমিন রিফাত

চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানাধীন ফ্রি-পোর্ট এলাকার একটি বেসরকারি মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (MLM) প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে দুই তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান কর্মকর্তা এ বি এমরানকে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। কমিশনভিত্তিক লোভনীয় চাকরির প্রলোভনে ওই প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হন বলে ভুক্তভোগী দুই তরুণী দাবি করেছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে ফ্রি-পোর্ট চৌধুরী মার্কেটের পাশে গাজী কমপ্লেক্সের চতুর্থ তলায় অবস্থিত ‘তিয়েনশী বাংলাদেশ কোং লিমিটেড’-এর কার্যালয়ে। অভিযুক্ত এ বি এমরান প্রতিষ্ঠানটির ‘ব্রোঞ্জ লায়ন’ পদে কর্মরত রয়েছেন।
মোবাইল চার্জ দিতে গিয়েই সর্বনাশ!
ভুক্তভোগী দুই তরুণী শারমিন আক্তার ও বৃষ্টি আক্তারের (প্রায় ১৮) দাবি, এক দালালের মাধ্যমে কমিশনভিত্তিক চাকরির প্রলোভনে প্রায় ১২ দিন আগে তাঁরা তিয়েনশীতে যোগ দেন। চাকরিতে যোগ দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁরা পৃথকভাবে যৌন নির্যাতনের শিকার হন।
শারমিন আক্তার অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন অফিসে তাঁর মুঠোফোনের চার্জ শেষ হয়ে গেলে সেটি চার্জে দিতে তিনি অভিযুক্ত কর্মকর্তা এমরানের কক্ষে যান। পরে ফোন আনতে গেলে এ বি এমরান দরজার লক আটকে তাঁকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ ঘটনা কাউকে জানালে তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়।
বাসা ছাড়ার অসহায়ত্বের সুযোগে রাতভর নির্যাতন
অপর ভুক্তভোগী বৃষ্টি আক্তার জানান, গত ৪ অক্টোবর বাড়িভাড়া দিতে না পারায় বাড়িওয়ালা তাঁকে বাসা ছেড়ে দিতে বলেন। নিরুপায় হয়ে বিষয়টি তিনি কর্মকর্তা এমরানকে জানালে এমরান তাকে রাতে অফিসেই থাকার পরামর্শ দেন এবং পরদিন থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
বৃষ্টির অভিযোগ, ওই রাতে অফিসকক্ষে প্রথমে এ বি এমরানের এক বন্ধু তাঁকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। পরে রাত আনুমানিক ২টার দিকে এ বি এমরান নিজে এসে তাঁকে পুনরায় ধর্ষণ করেন। এ সময় চিৎকার করতে চাইলে মুখ চেপে ধরা হয় এবং ঘটনা প্রকাশ করলে প্রাণে মেরে ফেলা ও চট্টগ্রাম থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে অভিযুক্ত আটক, ঘুষের প্রস্তাব
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর তাঁরা কোনোমতে ইপিজেড থানায় যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় সাংবাদিকেরা তাঁদের কাছ থেকে অভিযোগ শুনে সরাসরি সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে যান এবং পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে এ বি এমরানকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এদিকে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং পত্রিকায় প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে সাংবাদিকদের ২০ হাজার টাকা ঘুষ দেওয়ার প্রস্তাব দেন অভিযুক্ত এমরান। ভবিষ্যতে এমন কাজ আর করবেন না বলে সাংবাদিকদের কাছে সুযোগও ভিক্ষা চান তিনি।
চাকরির নামে নারীদের ফাঁদ ও জালিয়াতি
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেন, কমিশনভিত্তিক চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সরল-সোজা তরুণীদের ওই প্রতিষ্ঠানে আনা হয়। পরে তাঁদের টাকা-পয়সা, মুঠোফোন ও কানের দুলসহ মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নেওয়া হয়। এ ছাড়া তিয়েনশীর পণ্য বিক্রির নামে অসহায় নারীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
গাজী কমপ্লেক্সের ইনচার্জ বাবু জানান, সংশ্লিষ্ট অফিস কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে এবং অফিস ছেড়ে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। কারণ ওই কার্যালয়ে প্রায়ই ছোটখাটো ঝামেলা ও নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। (পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, মামলার অগ্রগতি ও ভুক্তভোগীদের মেডিকেল রিপোর্টের সাপেক্ষে পরবর্তী বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।)

Similar Articles

Advertismentspot_img

Most Popular